বিটরুট একটি পুষ্টিকর মূলজাতীয় সবজি, যা বর্তমানে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় বেশ জনপ্রিয়। বিটরুটে প্রাকৃতিক নাইট্রেট, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এসব কারণে বিটরুটের উপকারিতা নিয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। তবে শুধু উপকারিতা জানলেই হবে না, বিটরুটের অপকারিতা এবং অতিরিক্ত খাওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলোও জানা জরুরি। বিশেষ করে গর্ভাবস্থা, কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি, নিম্ন রক্তচাপ বা নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যায় বিটরুট খাওয়ার আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এই প্রতিবেদনে বিটরুটের উপকারিতা ও অপকারিতা, বিটরুট জুস ও পাউডারের ব্যবহার, ত্বক ও মুখের যত্ন এবং ফ্যাটি লিভারের ক্ষেত্রে এর সম্ভাব্য ভূমিকা সহজ ভাষায় তুলে ধরা হলো।
বিটরুট কী এবং এতে কী ধরনের পুষ্টি রয়েছে?
বিটরুট বা Beetroot হলো মাটির নিচে জন্মানো একটি মূলজাতীয় সবজি। সাধারণত গাঢ় লাল বা বেগুনি রঙের বিটরুট বেশি পরিচিত। এর রঙের জন্য দায়ী প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ রঞ্জক বিটালেইন (Betalain)।
বিটরুটে সাধারণত পাওয়া যায়:
- খাদ্য আঁশ বা ফাইবার
- প্রাকৃতিক নাইট্রেট
- পটাশিয়াম
- ফোলেটসহ কিছু ভিটামিন ও খনিজ
- অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উদ্ভিজ্জ যৌগ
খাবারের অংশ হিসেবে পরিমিত বিটরুট গ্রহণ একটি ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে।
বিটরুট এর উপকারিতা
১. রক্ত সঞ্চালন ও হৃদ্স্বাস্থ্যে সম্ভাব্য ভূমিকা
বিটরুটে থাকা প্রাকৃতিক নাইট্রেট শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরির প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে। নাইট্রিক অক্সাইড রক্তনালির কার্যক্রম এবং রক্ত প্রবাহের সঙ্গে সম্পর্কিত।
কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, বিটরুট জুস গ্রহণ রক্তনালির কার্যকারিতা উন্নত করতে পারে। তবে এটি কোনো রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়। উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করা উচিত।
বুকের স্বাস্থ্যের জন্য বিটরুট
অনেকে বুকের মধ্যে বিটরুটের উপকারিতা সম্পর্কে জানতে চান। বাস্তবে বিটরুট সরাসরি বুকের কোনো নির্দিষ্ট রোগ সারায়—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
তবে হৃদ্স্বাস্থ্য ও রক্ত সঞ্চালনের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে বিটরুট উপকারী হতে পারে। বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা থাকলে বিটরুটের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
২. হজমশক্তি ও কোষ্ঠকাঠিন্যে সহায়ক হতে পারে
বিটরুটে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে। পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার অন্ত্রের স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নিয়মিত সবজি, ফল, পর্যাপ্ত পানি এবং অন্যান্য ফাইবারসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে বিটরুট খেলে খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য যোগ হয়।
তবে শুধু বিটরুট খেলেই কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
৩. শরীরে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে
বিটরুটের লাল রঙের অন্যতম কারণ বিটালেইন নামের প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ যৌগ। এসব যৌগ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য গবেষণায় আগ্রহের বিষয়।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে কোনো একটি খাবারকে সব রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসার একমাত্র উপায় হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।
৪. শরীরচর্চা ও সহনশীলতায় সম্ভাব্য উপকার
বিটরুট জুস নিয়ে ক্রীড়াবিদ ও শরীরচর্চাকারীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, বিটরুটের নাইট্রেট শরীরের অক্সিজেন ব্যবহারের দক্ষতা ও ব্যায়ামের সহনশীলতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
তবে বিটরুট পাউডার ও বিটরুট জুসের প্রভাব সব ক্ষেত্রে একই হবে—এমন প্রমাণ এখনও নিশ্চিত নয়।
গর্ভাবস্থায় বিটরুট খাওয়ার উপকারিতা
গর্ভাবস্থায় খাবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। বিটরুট একটি পুষ্টিকর সবজি হলেও গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত পরিমাণে বিটরুট জুস বা নাইট্রেটসমৃদ্ধ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়।
সম্ভাব্য উপকারিতা
- খাদ্যতালিকায় ফাইবার যোগ করতে পারে
- বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করতে পারে
- স্বাস্থ্যকর সবজি হিসেবে বৈচিত্র্য আনতে পারে
গর্ভবতী নারীদের নিয়ে কিছু গবেষণায় বিটরুট জুস ও রক্তনালির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়েছে। একটি ছোট গবেষণায় ১৪০ মিলিলিটার বিটরুট জুস গ্রহণের পর রক্তনালির কার্যকারিতায় পরিবর্তন দেখা গেলেও এটি গর্ভাবস্থায় নিয়মিত বিটরুট সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের সাধারণ সুপারিশ হিসেবে বিবেচিত হয় না।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
গর্ভাবস্থায় বিটরুটের ঘন জুস, পাউডার বা সাপ্লিমেন্ট নিয়মিত ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। বিশেষ করে উচ্চ মাত্রার নাইট্রেট সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া করা উচিত নয়।
গর্ভাবস্থায় বিটরুট খাওয়ার নিয়ম: সাধারণ খাবারের অংশ হিসেবে পরিমিত বিটরুট গ্রহণের আগে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ত্বকের যত্নে বিটরুটের উপকারিতা
ত্বকের জন্য বিটরুট ব্যবহারের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সৌন্দর্যচর্চার কনটেন্টে জনপ্রিয়। বিটরুটে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পুষ্টি উপাদান স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ত্বকের সামগ্রিক স্বাস্থ্যে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে বিটরুট খেলে ত্বক স্থায়ীভাবে উজ্জ্বল হবে বা ব্রণ সম্পূর্ণ দূর হবে—এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
ত্বকের যত্নে কীভাবে ব্যবহার করা যায়?
- খাবারের সঙ্গে পরিমিত বিটরুট গ্রহণ
- বিটরুটযুক্ত স্মুদি বা সালাদ
- পর্যাপ্ত পানি পান
- সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা
ত্বকের সমস্যা থাকলে শুধুমাত্র ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মুখের জন্য বিটরুটের উপকারিতা
বিটরুট মুখের ত্বকের জন্য উপকারী—এমন দাবি অনেক জায়গায় দেখা যায়। কিন্তু বিটরুট সরাসরি মুখের ত্বকের সব সমস্যা সমাধান করে, এমন প্রমাণ নেই।
বিটরুটে থাকা উদ্ভিজ্জ পুষ্টি উপাদান খাদ্যের মাধ্যমে শরীরের সামগ্রিক পুষ্টিতে অবদান রাখতে পারে। তবে মুখে সরাসরি বিটরুটের রস বা পেস্ট ব্যবহার করলে সবার ত্বকে একই ফল পাওয়া যাবে না।
সংবেদনশীল ত্বকে নতুন কোনো উপাদান ব্যবহারের আগে সতর্কতা জরুরি।
বিটরুট জুস এর উপকারিতা

বিটরুট জুস বর্তমানে স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে জনপ্রিয়। এতে বিটরুটের কিছু পানিতে দ্রবণীয় পুষ্টি উপাদান থাকে এবং নাইট্রেটের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হতে পারে।
সম্ভাব্য উপকারিতা:
- রক্তনালির কার্যকারিতায় সহায়ক হতে পারে।
- শরীরচর্চার সহনশীলতায় ভূমিকা রাখতে পারে।
- সবজি খাওয়ার বিকল্প হিসেবে কিছু পুষ্টি সরবরাহ করতে পারে।
তবে জুস তৈরির সময় বিটরুটের ফাইবারের একটি অংশ কমে যেতে পারে। তাই সাধারণভাবে পুরো সবজি খাওয়া অনেক ক্ষেত্রে বেশি উপকারী হতে পারে।
বিটরুট জুস খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা
অতিরিক্ত জুস পান করলে খাদ্যতালিকায় নাইট্রেট ও প্রাকৃতিক শর্করার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া কিছু মানুষের প্রস্রাব বা মল সাময়িকভাবে লালচে বা গোলাপি দেখাতে পারে, যা বিটরুট খাওয়ার স্বাভাবিক প্রভাব হতে পারে।
বিটরুট পাউডার এর উপকারিতা
বিটরুট পাউডার তৈরি হয় শুকনো বিটরুট গুঁড়ো করে। এটি স্মুদি, পানীয় বা খাবারের সঙ্গে ব্যবহার করা যায়।
বিটরুট পাউডার নিয়ে সম্ভাব্য আগ্রহের কারণ:
- সহজে সংরক্ষণ করা যায়
- পানীয় বা খাবারে মেশানো যায়
- বিটরুটের কিছু পুষ্টি উপাদান ধারণ করতে পারে
তবে পাউডার হলো একটি ঘন খাদ্য উপাদান বা সাপ্লিমেন্ট ধরনের পণ্য। তাই স্বাভাবিক সবজি খাওয়ার সঙ্গে এর ব্যবহার এক নয়।
বিশেষ করে কিডনিতে পাথরের ইতিহাস, ওষুধ সেবন বা অন্য কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে বিটরুট পাউডার নিয়মিত ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিটরুটে অক্সালেট থাকে, যা কিছু মানুষের ক্যালসিয়াম অক্সালেট কিডনি স্টোনের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
ফ্যাটি লিভারে বিটরুটের উপকারিতা কতটা?
ফ্যাটি লিভার বা লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার সমস্যা নিয়ে অনেকেই বিটরুটের উপকারিতা জানতে চান।
বিটরুটে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ যৌগ রয়েছে। তবে ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় বিটরুটকে প্রমাণিত ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।
ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হলো:
- ওজন নিয়ন্ত্রণ
- নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম
- অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো
- চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেওয়া
বিটরুট স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে, কিন্তু শুধু বিটরুট জুস পান করলেই ফ্যাটি লিভার ভালো হয়ে যাবে—এমন দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
বিটরুট এর উপকারিতা ও অপকারিতা: সম্ভাব্য ঝুঁকি

বেশিরভাগ সুস্থ মানুষের জন্য খাবার হিসেবে পরিমিত বিটরুট সাধারণত নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়। তবে কিছু পরিস্থিতিতে সতর্কতা প্রয়োজন।
বিটরুটের সম্ভাব্য অপকারিতা
১. কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি
বিটরুটে অক্সালেট রয়েছে। যাদের আগে কিডনিতে ক্যালসিয়াম অক্সালেট পাথরের সমস্যা হয়েছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত বিটরুট বা বিটরুট পাউডার ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
২. প্রস্রাব বা মল লালচে হওয়া
বিটরুট খাওয়ার পর প্রস্রাব বা মলের রঙ লালচে দেখা যেতে পারে। এটি অনেক সময় বিটরুটের প্রাকৃতিক রঞ্জকের কারণে হয়।
তবে রক্তপাতের সন্দেহ থাকলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।
৩. নিম্ন রক্তচাপের ক্ষেত্রে সতর্কতা
বিটরুটের নাইট্রেট রক্তনালির কার্যকারিতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। যারা নিম্ন রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন বা রক্তচাপ কমানোর ওষুধ গ্রহণ করছেন, তাদের অতিরিক্ত বিটরুট জুস গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৪. অতিরিক্ত জুস বা পাউডার গ্রহণ
প্রাকৃতিক খাবার হলেও অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ সবসময় উপকারী নয়। বিশেষ করে ঘন জুস বা পাউডার ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিমাণ সম্পর্কে সতর্ক থাকা দরকার।
আরও পড়ুন: কাঁচা মরিচ খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
বিটরুট খাওয়ার নিয়ম
বিটরুট খাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো একক নির্দিষ্ট নিয়ম সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। ব্যক্তির বয়স, স্বাস্থ্য এবং খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে।
স্বাস্থ্যকর ব্যবহারের কিছু সাধারণ পরামর্শ:
- তাজা বিটরুট রান্না করে বা সালাদ হিসেবে খাওয়া যায়।
- জুসের পরিবর্তে পুরো বিটরুট খেলে ফাইবার পাওয়ার সুযোগ বেশি থাকে।
- অতিরিক্ত চিনি মিশিয়ে জুস পান না করাই ভালো।
- বিটরুট পাউডার ব্যবহারের আগে পণ্যের লেবেল ও উপাদান যাচাই করা উচিত।
- গর্ভবতী নারী, কিডনি রোগী বা নিয়মিত ওষুধ সেবনকারীরা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে
- বিটরুট একটি পুষ্টিকর মূলজাতীয় সবজি।
- এতে প্রাকৃতিক নাইট্রেট ও ফাইবার রয়েছে।
- রক্তনালির কার্যকারিতা ও ব্যায়ামের সহনশীলতা নিয়ে বিটরুটের সম্ভাব্য উপকারিতা গবেষণায় উঠে এসেছে।
- গর্ভাবস্থায় বিটরুট খাওয়ার আগে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি।
- বিটরুটের জুসে ফাইবারের পরিমাণ পুরো সবজির তুলনায় কম হতে পারে।
- বিটরুট পাউডার অতিরিক্ত ব্যবহার করার আগে সতর্ক থাকা দরকার।
- কিডনিতে পাথরের ইতিহাস থাকলে অক্সালেটের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
- ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিটরুট ব্যবহার করা যায় না।
সাধারণ মানুষের জন্য এর মানে কী?
বিটরুটকে একটি স্বাস্থ্যকর সবজি হিসেবে খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে কোনো একটি খাবারকে সব রোগের সমাধান হিসেবে দেখা উচিত নয়।
স্বাস্থ্য ভালো রাখতে বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ব্যায়াম এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ—সবগুলো বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত “বিটরুট খেলেই লিভার পরিষ্কার”, “ত্বক ফর্সা” বা “সব রোগ ভালো” ধরনের দাবির ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ যাচাই করা জরুরি।
আরও পড়ুন: লেমনগ্রাসের উপকারিতা: হজম, ত্বক ও ওজন নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর?
ভবিষ্যতে গবেষণার সুযোগ
বিটরুটের নাইট্রেট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং রক্তনালির কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা অব্যাহত রয়েছে। গর্ভাবস্থা, উচ্চ রক্তচাপ, ফ্যাটি লিভার এবং অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যায় বিটরুটের ভূমিকা নিয়ে আরও বড় ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন।
বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, বিটরুটকে স্বাস্থ্যকর খাদ্যের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা যায়; তবে রোগের চিকিৎসা বা প্রতিরোধের নিশ্চয়তা হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
আরও পড়ুন: পেয়ারা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা: কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস ও হজম নিয়ে যা জানা দরকার
উপসংহার
বিটরুটের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানলে বোঝা যায়, এটি পুষ্টিকর হলেও সব মানুষের জন্য একইভাবে উপকারী নাও হতে পারে। বিটরুটে থাকা ফাইবার, নাইট্রেট ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে গর্ভাবস্থা, কিডনিতে পাথরের ইতিহাস, নিম্ন রক্তচাপ বা ফ্যাটি লিভারের মতো স্বাস্থ্য সমস্যায় অতিরিক্ত বিটরুট জুস বা পাউডার গ্রহণের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বিটরুট কোনো ওষুধ নয়; এটি একটি পুষ্টিকর খাবার, যা সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।
FAQ: বিটরুট সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন
১. বিটরুট প্রতিদিন খাওয়া যায় কি?
সুস্থ ব্যক্তিরা সাধারণ খাবারের অংশ হিসেবে পরিমিত বিটরুট খেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত জুস বা পাউডার গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত।
২. গর্ভাবস্থায় বিটরুট খাওয়া কি নিরাপদ?
গর্ভাবস্থায় খাবার হিসেবে বিটরুট গ্রহণের বিষয়টি ব্যক্তির স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। নিয়মিত বিটরুট জুস বা সাপ্লিমেন্ট ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
৩. বিটরুট জুস কি ফ্যাটি লিভার ভালো করে?
বিটরুট জুস ফ্যাটি লিভারের প্রমাণিত চিকিৎসা নয়। ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম ও চিকিৎসকের পরামর্শ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
৪. বিটরুট পাউডার কি তাজা বিটরুটের বিকল্প?
বিটরুট পাউডার সহজে ব্যবহার করা গেলেও এটি তাজা বিটরুটের সম্পূর্ণ বিকল্প নয়। পাউডারের পুষ্টিমান ও ঘনত্ব পণ্যের ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।
৫. বিটরুট খেলে প্রস্রাব লাল হয় কেন?
বিটরুটের প্রাকৃতিক রঞ্জকের কারণে প্রস্রাব বা মল সাময়িকভাবে লালচে বা গোলাপি হতে পারে। তবে অস্বাভাবিক উপসর্গ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৬. ত্বক ও মুখের জন্য বিটরুট কি উপকারী?
বিটরুট স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে শরীরের সামগ্রিক পুষ্টিতে অবদান রাখতে পারে। কিন্তু ত্বক বা মুখের সব সমস্যা সমাধানের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।