চট্টগ্রামে জশনে জুলুস উপলক্ষে ফ্লাইওভার বন্ধ
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে চট্টগ্রামে জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। জুলুস চলার সময়ে লালখান বাজার থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত ফ্লাইওভারে যান চলাচল বন্ধ থাকবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জুলুস ও সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কিছু নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে।
কখন ও কোথা থেকে শুরু হবে জুলুস?
পুলিশের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টায় জশনে জুলুস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ষোলশহর জামেয়া আহমেদিয়া সুন্নীয়া মাদ্রাসার কাছের আলমগীর খানকা থেকে শোভাযাত্রাটি যাত্রা শুরু করবে। এরপর নির্ধারিত কয়েকটি সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অতিক্রম করে আবার মাদ্রাসা-সংলগ্ন জুলুস ময়দানে গিয়ে এটি শেষ হবে।
জুলুসের নির্ধারিত রুটে রয়েছে—
- বিবিরহাট
- মুরাদপুর
- ষোলশহর ২ নম্বর গেট
- জিইসি
- ওয়াসা মোড়
- দামপাড়া
- লালখান বাজার
- টাইগার পাস
- এরপর জুলুস ময়দান
জুলুস চলার সময় এই রুটের বিভিন্ন অংশে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ থাকতে পারে।
কোন ফ্লাইওভার বন্ধ থাকবে?
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জুলুস চলাকালে লালখান বাজার-মুরাদপুর ফ্লাইওভার দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হবে।
ফলে এই সময়ে ওই ফ্লাইওভার ব্যবহারকারী যানবাহনগুলোকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হতে পারে। তবে বিকল্প রুট সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জেনে নেওয়া যাত্রী ও চালকদের জন্য সুবিধাজনক হবে।
পুলিশের আরও যেসব নির্দেশনা
শুধু যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ নয়, ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে নগরীর বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত জুলুস ও মাহফিলকে ঘিরে কিছু নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছে সিএমপি।
পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসব আয়োজনে—
- অস্ত্র বহন করা যাবে না
- অস্ত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধ
- অস্ত্র ব্যবহার করা যাবে না
- কুশপুতল প্রদর্শন করা যাবে না
সিএমপি অধ্যাদেশ ১৯৭৮-এর ২৮ ও ২৯ ধারার আওতায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এবার চট্টগ্রামে ৫৫তম জশনে জুলুস

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনায় এবার চট্টগ্রামে জশনে জুলুসের ৫৫তম আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
গতবারের মতো এবারও জুলুসের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহের। আয়োজনে অতিথি হিসেবে থাকার কথা রয়েছে সৈয়দ মুহাম্মদ কাসেম শাহ ও সৈয়দ মুহাম্মদ আকিব শাহের।
দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে এই জশনে জুলুস আয়োজন করা হয়ে আসছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে কেন এই আয়োজন?
হিজরি বর্ষের ১২ রবিউল আউয়াল মুসলিমদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ remove the water mark bdnews24.comএকটি দিন। প্রচলিত ধর্মীয় রীতিতে এই দিনকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ইন্তেকালের সঙ্গে স্মরণ করা হয় এবং বিভিন্ন দেশে এ উপলক্ষে নানা ধরনের ধর্মীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশেও ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে আলোচনা, দোয়া, মিলাদ ও জশনে জুলুসের মতো কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। চট্টগ্রামের এই আয়োজনও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।
বাংলাদেশে ঈদে মিলাদুন্নবী সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়।
নগরবাসীর জন্য কী গুরুত্বপূর্ণ?
চট্টগ্রামে জশনে জুলুসের মতো বড় ধর্মীয় আয়োজন হলে নির্দিষ্ট রুটে স্বাভাবিক যান চলাচলে সাময়িক পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে লালখান বাজার, মুরাদপুর, জিইসি, ওয়াসা ও আশপাশের এলাকায় চলাচলকারীদের বিষয়টি মাথায় রাখা প্রয়োজন।
যারা ওই সময়ে জরুরি কাজে এসব এলাকা দিয়ে যাতায়াত করবেন, তাদের নির্ধারিত সময়ের আগে বের হওয়া এবং পুলিশের ট্রাফিক নির্দেশনা অনুসরণ করা সুবিধাজনক হতে পারে।
এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- আয়োজন: ঈদে মিলাদুন্নবীর জশনে জুলুস
- স্থান: চট্টগ্রাম নগরী
- শুরুর সময়: সকাল ৮টা
- শুরুর স্থান: আলমগীর খানকা, ষোলশহর জামেয়া আহমেদিয়া সুন্নীয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন
- আয়োজক: আনজুমানে রহমানিয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া ট্রাস্ট
- এবারের আয়োজন: ৫৫তম জশনে জুলুস
- ফ্লাইওভার বন্ধ: লালখান বাজার-মুরাদপুর
- জুলুসের নেতৃত্বে: সৈয়দ মুহাম্মদ সাবির শাহ
- নিষেধাজ্ঞা: অস্ত্র বহন, প্রদর্শন ও ব্যবহার এবং কুশপুতল প্রদর্শন
নগরীর যান চলাচলে কী প্রভাব পড়তে পারে?
জুলুসের নির্ধারিত রুট নগরীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়ের মধ্য দিয়ে গেছে। ফলে শোভাযাত্রা চলাকালে এসব এলাকায় যানবাহনের গতি কমতে পারে অথবা সাময়িকভাবে চলাচল নিয়ন্ত্রিত হতে পারে।
বিশেষ করে লালখান বাজার-মুরাদপুর ফ্লাইওভার বন্ধ থাকায় ওই পথে নিয়মিত চলাচলকারী যানবাহনকে বিকল্প পথ নিতে হতে পারে।
তবে যানজটের মাত্রা বা কতক্ষণ নির্দিষ্ট সড়কে নিয়ন্ত্রণ থাকবে, সে বিষয়ে দেওয়া তথ্যের বাইরে কোনো নির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেওয়া যাচ্ছে না।
সামনে কী হতে পারে?
জশনে জুলুস শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারিত রুটে পুলিশের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কার্যকর থাকবে। নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এ ক্ষেত্রে চালক ও পথচারীদের পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলা এবং সম্ভব হলে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ।
FAQ
১. চট্টগ্রামে জশনে জুলুস কখন শুরু হবে?
পুলিশের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টায় জশনে জুলুস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
২. চট্টগ্রামে কোন ফ্লাইওভার বন্ধ থাকবে?
জুলুস চলাকালে লালখান বাজার থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত ফ্লাইওভার বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ।
৩. জশনে জুলুস কোথা থেকে শুরু হবে?
ষোলশহর জামেয়া আহমেদিয়া সুন্নীয়া মাদ্রাসার সংলগ্ন আলমগীর খানকা থেকে জুলুস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
৪. চট্টগ্রামের জশনে জুলুসের রুট কী?
জুলুসটি বিবিরহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর ২ নম্বর গেট, জিইসি, ওয়াসা মোড়, দামপাড়া, লালখান বাজার ও টাইগার পাস হয়ে আবার জুলুস ময়দানে ফিরবে।
৫. এবার কততম জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হচ্ছে?
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবার চট্টগ্রামে ৫৫তম জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
৬. জুলুসকে ঘিরে কী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?
সিএমপির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট শোভাযাত্রা ও মাহফিলকে ঘিরে অস্ত্র বহন, প্রদর্শন ও ব্যবহার এবং কুশপুতল প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।