পেয়ারা পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, পাঁচ দিন পর চমেক হাসপাতালে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা?

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর প্রতীকী ছবি

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুলাই চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব মন্দাকিনী এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে একটি পেয়ারা গাছে ওঠে মোহাম্মদ আলিফ।

গাছে ফল সংগ্রহ করার সময় তিনি পাশ দিয়ে যাওয়া ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সংস্পর্শে চলে আসেন। এতে মুহূর্তেই তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং শরীরের বড় অংশ দগ্ধ হয়ে যায়।

পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

আরও পড়ুন: জর্ডানে মার্কিন সেনা নিহতের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা


পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর টানা পাঁচ দিন নিবিড় চিকিৎসা দেওয়া হয় আলিফকে।

তবে দগ্ধ হওয়ার মাত্রা গুরুতর হওয়ায় চিকিৎসকদের সব চেষ্টা সত্ত্বেও রোববার (১৯ জুলাই) সকালে তিনি মারা যান।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।


নিহত শিক্ষার্থীর পরিচয়

নিহত মোহাম্মদ আলিফ চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মন্দাকিনী এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ শাহেদের ছেলে।

তিনি স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিলেন।


স্থানীয় জনপ্রতিনিধি যা বললেন

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সেলিম জাহাঙ্গীর জানান, পেয়ারা পাড়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আলিফ গুরুতর আহত হয়েছিল।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে তার মৃত্যু হয়।

একই দিন সকাল ১০টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।


কেন এমন দুর্ঘটনা ঘটে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের খুব কাছাকাছি গাছ থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

অনেক সময় মানুষ সরাসরি তার স্পর্শ না করলেও বিদ্যুতের আর্কিং (Electrical Arcing) বা খুব কাছাকাছি চলে যাওয়ার কারণেও গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ কারণে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের আশপাশে গাছে ওঠা বা ফল সংগ্রহ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।


বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে কী করবেন?

কোনো ব্যক্তি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে প্রথমেই নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

এরপর—

  • বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করুন।
  • সরাসরি স্পর্শ না করে শুকনো কাঠ বা অ-পরিবাহী বস্তু ব্যবহার করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিরাপদ স্থানে সরান।
  • দ্রুত জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।
  • গুরুতর দগ্ধ হলে যত দ্রুত সম্ভব বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া উচিত।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের ঘরোয়া চিকিৎসা না করাই নিরাপদ।

এখন কী হতে পারে?

স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে উচ্চ ভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইনের আশপাশের গাছপালা নিয়মিত ছাঁটাই এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

পটভূমি (Background)

বাংলাদেশে প্রতিবছর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণহানির বহু ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের নিচে বা খুব কাছাকাছি থাকা গাছে ওঠার সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি থাকে। অনেক ক্ষেত্রে অসচেতনতা, নিরাপদ দূরত্ব সম্পর্কে ধারণার অভাব এবং বিদ্যুৎ লাইনের আশপাশে পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা না থাকায় এমন দুর্ঘটনা ঘটে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩৩ হাজার ভোল্টের মতো উচ্চক্ষমতার বিদ্যুৎ লাইনের কাছাকাছি যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। সরাসরি তার স্পর্শ না করলেও বিদ্যুতের আর্ক (Electrical Arc) তৈরি হয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

আরও পড়ুন: আর্জেন্টিনা-স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ কে?


কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ

এই ঘটনাটি শুধু একটি দুর্ঘটনার খবর নয়, বরং জননিরাপত্তার বিষয়টিও সামনে নিয়ে এসেছে।

বিশেষ করে—

  • উচ্চ ভোল্টেজ লাইনের আশপাশে গাছে ওঠার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।
  • বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের নিচের গাছপালা নিয়মিত ছাঁটাই করা দরকার।
  • শিশু ও কিশোরদের বিদ্যুৎ নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া জরুরি।
  • স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বিত নজরদারি প্রয়োজন।
  • ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

পাঠকের জন্য মূল তথ্য (Key Information)

  • ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায়।
  • ১৫ জুলাই পেয়ারা পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন আলিফ।
  • গাছের পাশ দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ছিল।
  • গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
  • পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৯ জুলাই সকালে তার মৃত্যু হয়।
  • একই দিন জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
  • স্থানীয় জনপ্রতিনিধিও মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

FAQ

১. ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে?

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব মন্দাকিনী এলাকায়।

২. কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটে?

বাড়ির সামনে একটি পেয়ারা গাছে ওঠার সময় পাশ দিয়ে যাওয়া ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সংস্পর্শে এসে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন।

৩. কত দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন?

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে টানা পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন।

৪. কখন তার মৃত্যু হয়?

রোববার (১৯ জুলাই) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

৫. এমন দুর্ঘটনা এড়াতে কী করা উচিত?

উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ লাইনের কাছাকাছি গাছে না ওঠা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং শিশু-কিশোরদের এ বিষয়ে সচেতন করা জরুরি।


উপসংহার

হাটহাজারীর এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল যে উচ্চ ভোল্টেজের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের আশপাশে সামান্য অসতর্কতাও প্রাণঘাতী হতে পারে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top